Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাঁঠালের ভালো ফলন, ২২ কোটি টাকা বিক্রির আশা

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া পাহাড়ের লাল মাটি এ বছর কাঁঠালের ভালো ফলন দিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি বাগান মালিকরা। অন্যদিকে দাম নাগালের মধ্যে থাকায় স্বস্তি পেয়েছেন ক্রেতারা



ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী লাল পাহাড়ি জমিতে কাঁঠালের ভালো ফলন পাওয়া গেছে। মধুচন্দ্রিমায় আখাউড়ার বিষ্ণাপুর, কালাছড়া, চতুরপুর, পাহাড়পুর, মেরাসানি, আউলিয়া বাজার, চম্পকনগর, সিঙ্গারবিল ও গোপীনাথপুর, বায়েক, মন্দবাগ, কায়েমপুর ও আজমপুর, আমুদাবাদ, রাজাপুর ও আমুদাবাদ এলাকায় কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে ও রোগবালাই মুক্ত হওয়ায় পরিপক্ক অবস্থায় বাগান থেকে কাঁঠাল বাজারজাত করা হচ্ছে।👀


চাষিরা জানান, রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় বাজারে পাহাড়ি কাঁঠালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাগান থেকে ১০০টি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে আট থেকে ১০ হাজার টাকায়। এতে কৃষকরা অনেক লাভবান হচ্ছেন। বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুরের বাগান মালিক আবুল হাসান বলেন, "এবার আমাদের এলাকায় কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ কাঁঠাল কাটা হয়। ১০০ থেকে ১২০০ কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে আট থেকে ১০ টাকায়। 10 হাজার টাকা। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা কাঁঠাল কিনতে আসেন। তারা এই কাঁঠালগুলো বাজারে বিক্রি করেন। আমরা আশা করছি এ বছর কাঁঠালের ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হবেন।'


বিজয়নগরের বাগান মালিক আলামিন বলেন, "অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। আকারেও বেশ বড়। দেড় মাস আগে ব্যবসা শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাস চলবে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাঁঠাল বিক্রি করে লাভবান হবেন বাগান মালিকরা।বিজয়নগর এলাকার মাটির মান ভালো হওয়ায় কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে।'


পাহাড়পুরের মো. ফারুক হোসেন বলেন, "আমরা ইতিমধ্যে কাঁঠালের বাগান কিনেছি। একশ কাঁঠাল কিনেছি পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায়। এখন কাঁঠাল পেকে যাওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারি বিক্রেতারা বাগানে আসছে। একশ কাঁঠাল বিক্রি করছি আট থেকে নয় হাজার টাকায়। টাকা। এই দামে আগামী তিন মাস ব্যবসা ভালো হবে।'


মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি বাগান মালিকরা

মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি বাগান মালিকরা



স্থানীয় কাঁঠাল ক্রেতাদের মতে, সীমান্তের পাহাড়ি লাল মাটিতে কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। দামও নাগালের মধ্যে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনন্দ বাজারের কাঁঠাল বিক্রেতা আব্দুল হাকিম বলেন, বিজয়নগরের বিষ্ণাপুর, কালাছড়া, চতুরপুর, পাহাড়পুর, মেরাসানি ও আউলিয়া বাজার এলাকা থেকে কাঁঠাল এনেছি। প্রতিদিন বাজারে ৩০০ কাঁঠাল বিক্রি করি। বিজয়নগরে ক্রেতারা কাঁঠাল পছন্দ করেন। এখানে দাম নির্ধারণ করা হয় কাঁঠালের আকার অনুযায়ী। '


কাঁঠাল কিনতে বাজারে আসা নুরুল হক বলেন, বিজয়নগরে অন্য এলাকার সবাই কাঁঠাল পছন্দ করে। এসব এলাকায় মানুষ বেশি কাঁঠাল কেনে। আমিও কিনতে এসেছি। দাম নাগালের মধ্যে।


কাঁঠাল কিনতে আসা লোকমান মিয়া জানান, মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় এ অঞ্চলের কাঁঠাল খুবই মিষ্টি। এ কারণে আমরা এলাকায় কাঁঠাল পছন্দ করি। বাজারে কাঁঠালের দামও ভালো। তাই কিনতে এসেছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সুশান্ত সাহা বলেন, মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় এ বছর জেলায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে। বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলার পাহাড়ি টিলার লাল মাটিতে কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। এ কারণে প্রতি বছরই এ অঞ্চলে কাঁঠালের আবাদ বাড়ছে। '


তিনি বলেন, এ বছর কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ভালো ফলন হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ বছর জেলা থেকে ২২ কোটি টাকার কাঁঠাল বিক্রি হবে বলে আশা করছি। '


Post a Comment

0 Comments

রান্নার রেসেপি